খেলাধুলা | তারিখঃ মার্চ ১৭, ২০২৬ | নিউজ টি পড়া হয়েছেঃ 1706 বার
মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজ নির্ধারণী রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ২৯০ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ২৭৯ রানে অলআউট হয়, বাংলাদেশ ১১ রানের জয় পায়।
তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে রোববার (১৫ মার্চ) পাকিস্তানের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৯০ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ৫০ ৫০ ওভারে ২৭৯ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান।
রান তাড়ায় শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে বিদায় করেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারে মাজ সাদাকাতকে সাজঘরের পথ দেখান নাহিদ রানা। তৃতীয় ওভারে আবারও তাসকিন, এবার তার শিকার মোহাম্মদ রিজওয়ান।
১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। দ্বিতীয় পাওয়ার প্লেতে গাজী ঘোরি ও আবদুল সামাদ আউট হলে পাকিস্তান চূড়ান্ত বিপর্যয়ে পড়ে। ৮২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর যেখানে সফরকারীদের হার দেখছিল অনেকে, সেখান থেকে শুরু হয় সালমানের প্রতিরোধ। একপ্রান্ত আগলে রেখে একটু একটু করে পান সেঞ্চুরির দেখা। অষ্টম ব্যাটার হিসেবে সালমান থামেন। যাবার আগে ৯৮ বলে ৯টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১০৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
সালমানকে দারুণ সঙ্গ দেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। ৩৮ বলে ৩৭ রান করেন। ম্যাচ বাঁচিয়ে রাখেন শাহিন। তবে, জয় এনে দিতে পারেননি। ইনিংসের শেষ বলে রিশাদ হোসেনের ডেলিভারিতে তাকে স্ট্যাম্পিং করেন লিটন দাস।
বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন নেন চার উইকেট। মুস্তাফিজুর রহমান তিনটি এবং নাহিদ রানা পান দুই উইকেট।
প্রথম ওয়ানডেতে ভালো করলেও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। আজ সেই ব্যর্থতা পুষিয়েছেন দুই ওপেনার। তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসান মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১০৫ রান। ৩৬ রান করে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হন সাইফ। অপরপ্রান্তে তামিম ছিলেন অবিচল। পাকিস্তানি বোলারদের শাসিয়ে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।
তামিমকে থামান আবরার আহমেদ। শাহিন আফ্রিদির ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ১০৭ বলে ৬টি চার ৭টি ছক্কায় ১০৭ রানের ঝলমলে ইনিংস উপহার দেন তামিম। ওয়ানডাউনে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন হারিস রউফের বলে বোল্ড হয়ে। তার ব্যাট থেকে আসে ২৭ রান। লিটন দাস বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ৪১ রানে তাকেও থামান রউফ। রিশাদ হোসেনকে গোল্ডেন ডাকের লজ্জা দিয়ে বাংলাদেশকে খানিকটা ব্যাকফুটে ফেলেন রউফ।
তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটে কক্ষপথেই থাকে স্বাগতিকরা। ৪৪ বলে চারটি চারে ৪৮ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। বাংলাদেশও পায় লড়াইয়ের পুঁজি।
পাকিস্তানের পক্ষে হারিস রউফ তিনটি এবং শাহিন আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ পান একটি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ : ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (সাইফ ৩৬, তামিম ১০৭, শান্ত ২৭, লিটন ৪১, রিশাদ ০, হৃদয় ৪৮*, আফিফ ৫*; আফ্রিদি ১০-০-৫৫-১, রউফ ১০-০-৫২-৩, আবরার ১০-০-৪৯-১, ফাহিম ৪-০-২৪-০, সাদ ৮-০-৫৫-০, সাদাকাত ১-০-৯-০, সালমান ৭-০-৩৫-০)
পাকিস্তান : ৫০ ওভারে ২৭৯/১০ (ফারহান ৬, সাদাকাত ৫, ঘোরি ২৯, রিজওয়ান ৪, সামাদ ৩৪, সালমান ১০৬, মাসুদ ৩৮, ফাহিম ৯, আফ্রিদি ৩৭, রউফ ১, আবরার ০*; তাসকিন ১০-১-৪৯-৪, নাহিদ ১০-০-৬২-২, মুস্তাফিজ ১০-০-৫৪-৩, মিরাজ ১০-০-৩৭-০, রিশাদ ৭-০-৫৬-১, সাইফ ৩-০-১৮-০)
ফলাফল : বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
সিরিজ : বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী



Leave a Reply