জেলা সংবাদ, নোয়াখালী | তারিখঃ এপ্রিল ৩০, ২০২৬ | নিউজ টি পড়া হয়েছেঃ 10 বার

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের হেনস্তা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের সাংগঠনিক পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জিয়াউর রহমান রায়হান বৃহস্পতিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার দুপুর দুইটার দিকে নোয়াখালী সরকারি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, কলেজের বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও পরীক্ষার ফি সংক্রান্ত বিষয়ে চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী কলেজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছিলেন। বুধবার অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক কার্যালয়ের একটি কক্ষে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে তাদের গালমন্দ করেন। পাশাপাশি তারা খাবারের টেবিল থেকে শিক্ষকদের উঠে যেতে বাধ্য করেন। এক পর্যায়ে তারা বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তাঁর শার্টের বোতাম ছিঁড়ে ফেলেন। ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিক্ষকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, শিক্ষকদের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় তাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে।
কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের দাবি, তারা শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। তখন ভুল বোঝাবুঝি থেকে তর্কাতর্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এক ছাত্র ক্ষুব্ধ হয়ে ফুলের টব ও একটি গ্লাস ভাঙচুর করেন। এর সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
জেলা ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী জিয়াউর রহমান রায়হান কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষসহ অধিকাংশ শিক্ষককে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, ওই শিক্ষকেরা জামায়াত-শিবিরকে নানাভাবে সহায়তা করছেন, কিন্তু ছাত্রদলের সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন।
তিনি দাবি করেন, নোয়াখালী কলেজে চাঁদাবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। ছাত্ররা অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে সামান্য উচ্চবাচ্চ্য করেছে। এর বেশি কিছু নয়। কিন্তু কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংগঠনের ভাবমূর্তি ঠিক রাখতে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। ছাত্রদল কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, বুধবারের ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি, পেলে তদন্তের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এ বি এম সানাহ উল্লাহ বলেন, ‘চাঁদা না দেওয়ায় কিছুদিন ধরে তারা (ছাত্রদল) নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল। বুধবার দুপুর দুইটার দিকে কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন ও দুইজন অতিথিসহ আমরা দুপুরের খাওয়া খাচ্ছিলাম। এই সময় কয়েকজন ছাত্রদল নেতা কক্ষে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এমনকি অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে ও হুমকি দেয়।’
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান গুরুত্বসহকারে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাঁর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।



Leave a Reply