রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৪২) একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী নিহত হয়েছেন । তিনি হাজারীবাগের জিগাতলা এলাকার সুলতানগঞ্জের বাসিন্দা কে এম ফকরুদ্দিনের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার রাতে নিউমার্কেট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহাদৎ হোসেন গন মাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পিবিআই নিহতের ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করে। তার আরও বিস্তারিত পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গুলিবিদ্ধ টিটনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেই তালিকার ২ নম্বর আসামি টিটন। তিনি দীর্ঘদিন জেলে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর সম্ভবত ১৩ আগস্ট তিনি জামিনে মুক্ত হন। পালায়ে ছিলেন। আমরা কিন্তু খোঁজার চেষ্টা করছি, কিন্তু পাইনি।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, কোনোভাবে আজ এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা মনে করছি, সন্ত্রাসীদের অর্থাৎ আন্ডারওয়ার্ল্ডের কেউ না কেউ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এখনো আমরা ডিটেক্ট করতে পারিনি।

আজ রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেটের বটতলা এলাকায় শহীদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন রাস্তায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন টিটন।

তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা শিক্ষার্থী মো. মেজবাহ রহমান বলেন, দুইজন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে ওই যুবককে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। তখন তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। সেসময় আশপাশের লোকজন ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যান।

তিনি বলেন, হামলাকারী দুইজনই ক্যাপ ও মাস্ক পরা ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী রতন হোসেন জানান, ওই যুবক হেঁটে বটতলা এলাকা থেকে নিউমার্কেটের দিকে যাচ্ছিলেন। শহীদ শাহ নেওয়াজ হলের গেটের কাছে একটি মোটরসাইকেলে দুইজন অপেক্ষা করছিলেন। ওই যুবক আসতেই একজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

তিনি বলেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারী এগিয়ে গিয়ে মাথায় আরেকটি গুলি করে। সেসময় আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারী তাদের লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে। পরে মোটরসাইকেলে তারা পালিয়ে যায়।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান , নিহত যুবকের মাথাসহ শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।