প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেয়ে উচ্ছ্বসিত রাঙ্গামাটিবাসী পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির আলোকে গঠিত ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ সৃষ্টির ২৮ বছর পর এই প্রথম পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী পেয়েছেন পার্বত্য বাসী।

আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। দীর্ঘ সময় পর এবং প্রথমবারের মতো রাঙ্গামাটির কোনো সংসদ সদস্য পূর্ণ মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় জেলাজুড়ে আনন্দের বন্যা বইছে।

১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর, পরের বছর ১৫ জুলাই তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। শুরুতেই এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত কল্পরঞ্জন চাকমা। ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট জয়ী হওয়ার পর রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মনিস্বপন দেওয়ানকে উপমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠনের পর রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার পালন করেন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। এরপর ২০১৪ সালে বান্দরবানের সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উশৈসিংকে প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সালে পুনরায় তাকে পার্বত্য মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। ২০২৪ সালের একতরফা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও সরকার গঠন করার পর খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব পেলেও এই প্রথম রাঙ্গামাটি জেলা থেকে কোনো সংসদ সদস্য পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেলেন।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব পাওয়ার খবরে উচ্ছ্বসিত রাঙ্গামাটিবাসী। নেতাকর্মীরা একে-অপরকে মিষ্টিমুখ করাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীপেন দেওয়ানকে অভিনন্দন জানাচ্ছেন। তাকে রাঙ্গামাটিতে রাজকীয় বরণের ঘোষণাও দিয়েছেন নেতাকর্মীরা।

রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রনেল দেওয়ান বলেন, ‘দীপেন দেওয়ানের নেতৃত্বে আমরা সকল নেতাকর্মী গত ২০ বছর ধরে সক্রিয় ছিলাম। তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেয়ার পর ২০ বছর ধরে দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন। তার এই ত্যাগের মূল্যায়ন দল করেছে। রাঙ্গামাটিবাসী দীপেন দেওয়ানকে জাঁকজমকভাবে বরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

জেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান রাঙ্গামাটিবাসীকে মূল্যায়ন করেছেন। দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানে ভোট জিতে এই আসনটি উপহার দেয়ায় তিনি রাঙ্গামাটির মানুষের গণরায়কে স্বীকৃতি দিয়ে রাঙ্গামাটিতে এই প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিত্ব দিয়েছেন। রাঙ্গামাটিবাসী তার কাছে কৃতজ্ঞ। দীপেন দেওয়ান এই আস্থার প্রতিদান দেবেন। শিগগিরই দীপেন দেওয়ানকে রাঙ্গামাটিতে রাজসিক বরণ করা হবে।’

এদিকে প্রথমবারের মতো এই মন্ত্রণালয়ে দুইজনকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তিন পার্বত্য জেলার বাইরে চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর হেলাল।