জাতীয় | তারিখঃ এপ্রিল ২২, ২০২৬ | নিউজ টি পড়া হয়েছেঃ 81 বার

বাংলাদেশ-ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে অংশীদারত্ব চুক্তি (পিসিএ) অনুস্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গতকাল ব্রাসেলস সফর করেন। এতে তার সফরসঙ্গী ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সফরকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের হাই-রিপ্রেজেন্টেটিভ ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কায়া কালাসের উপস্থিতিতে ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিস (ইইএএস) সদর দপ্তরে বাংলাদেশ-ইইউ অংশীদারত্ব চুক্তি (পিসিএ) অনুস্বাক্ষরিত হয়, যা বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম ) ড. মু. নজরুল ইসলাম ও ইইউর পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এশিয়া এবং প্যাসিফিক) পাওলা পাম্পালনি স্বাক্ষর করেন।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ড. খলিলুর এবং কায়া কালাস পিসিএর অনুস্বাক্ষরকে স্বাগত জানান ও তারা এ চুক্তিকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি ভবিষ্যৎমুখী রূপরেখা হিসেবে উল্লেখ করেন। চুক্তিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, উন্নয়ন ও নিরাপত্তা খাতে বাংলাদেশ-ইইউ কূটনৈতিক সম্পর্ককে সুসংহত করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন। এ চুক্তি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অভিন্ন স্বার্থের বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ-ইইউ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করবে বলে তারা মত দেন।
পরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চ প্রতিনিধি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বমূলক সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউর উচ্চ প্রতিনিধি/ভাইস প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক অগ্রগতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের চলমান সংস্কার, পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশে ইইউর একটি শক্তিশালী নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠানোর জন্য কালাসকে ধন্যবাদ জানান। কালাস একটি সফল ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, আঞ্চলিক সহযোগিতা, অভিবাসন, ও রোহিঙ্গা সমস্যাসহ সম্ভাব্য সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাজার প্রবেশাধিকারসহ বাংলাদেশের অন্যান্য অগ্রাধিকার তুলে ধরেন ও ইইউর সঙ্গে আরো শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করেন। তিনি দ্রুততম সময়ে বাংলাদেশ-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার আগ্রহও ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা মানবিক কার্যক্রমে ইইউর সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং এ দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার টেকসই সমাধানের জন্য ইইউর অব্যাহত সম্পৃক্ততা কামনা করেন।
পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র, ইউরোপীয় বিষয়ক এবং উন্নয়ন সহযোগিতা বিষয়কমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। এ সময়ে উভয় মন্ত্রী বাংলাদেশ-বেলজিয়ামের কূটনৈতিক সম্পর্ক পর্যালোচনার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, উদ্ভাবন এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতার সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরো সুসংহত করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন। উভয় পক্ষ এ বছরের শেষে ব্রাসেলসে তৃতীয় বাংলাদেশ-বেলজিয়াম দ্বিপক্ষীয় কনসাটেশনস আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী লজিস্টিকস, বন্দর ব্যবস্থাপনা, ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রযুক্তি, পানি ব্যবস্থাপনাসহ যেসব ক্ষেত্রে বেলজিয়ামের দক্ষতা রয়েছে সেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে আরো সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
উভয় পক্ষ অভিবাসন, ভিসা ও কনস্যুলার বিষয় এবং রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষ দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বহুপক্ষীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করবে বলে আশা ব্যক্ত করে।সুত্র-বনিক বার্তা



Leave a Reply