মহাকাশের পথে প্রথম প্রাইভেট রকেটের যাত্রা শুরু হলো। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেনেডি স্পেস সেন্টার বেসরকারি গবেষণা সংস্থা থেকে স্পেস এক্স’র এই রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।

এর আগে গত বুধবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে অ্যাস্ট্রো-বেনকেন ও অ্যাস্ট্রো-হার্লে নামের নাসার দুই নভোচারীকে মহাকাশে পাঠানোর কথা ছিল স্পেস এক্স’র। তবে বৃষ্টির কারণে সেটি আর হয়ে ওঠেনি।

উৎক্ষেপণের মুহূর্তে প্রার্থনা করছিলেন উল্লেখ করে নাসার অ্যাডমিনিস্টেটর জিম ব্রিডেনস্টাইন বলেন, বর্তমান সময় নিঃসন্দেহে কঠিন, তবে এই উৎক্ষেপণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে সহায়তা করেছে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে করোনা ভাইরাস মহামারিসহ আরো অনেক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে আমেরিকা। কিন্তু আমরা একতাবদ্ধ থাকলে মানবতার জন্য কি করতে পারি তার আরেকটি প্রমাণ হয়ে গেলো।

গত ৯ বছর ধরে নাসার নভোচারীরা মহাকাশে যাওয়ার জন্য রাশিয়ার মহাকাশযান ব্যবহার করেছে। প্রায় এক দশক পর নিজেদের মাটি থেকে নিজদের রকেটে চড়ে মহাকাশে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো মার্কিন নভোচারীদের কাছে।

এতদিন নাসার রকেট দিয়ে মহাকাশে নভোচারী প্রেরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এবার নাসার পাশপাশি বেসরকারি গবেষণা সংস্থা স্পেস এক্স মহাকাশে মানুষ পাঠিয়ে সেই ইতিহাস গড়ল। তবে এই যাত্রায় স্পেস এক্সকে সহায়তা করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

স্পেস এক্সপ্লোরেশন টেকনোলজিস কর্প তথা স্পেস এক্সের পথ চলা সেই ২০০২ সাল থেকে। প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। ক্যালোফোর্নিয়ার এই বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসক্রাফ্ট এবং রকেট বানানোর জন্য বিখ্যাত। মহাকাশযান তৈরি করলেও, মহাকাশ অভিযানে রকেট পাঠানোর সুযোগ কয়েকবারই হয়েছে স্পেস এক্স সেন্টারের। প্রথমবার ২০০৮ সালে পৃথিবীর কক্ষে ফ্যালকন ১ রকেট পাঠিয়েছিল স্পেস এক্স। সেটাই ছিলপ্রথম মহাকাশ মিশন। ২০১০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ড্রাগন স্পেসক্রাফ্ট মহাকাশে পাঠিয়েছিল তারা। এরপরে ২০১৫ ও ২০১৭ সালে ফ্যালকন ৯ রকেট পাক খেয়েছে পৃথিবীর কক্ষে। ২০১১ সালে প্রথমবার নভশ্চর নিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনে নামে স্পেস এক্সের ড্রাগন স্পেসক্রাফ্ট। তারপর থেকে দীর্ঘ সময়ের বিরতি। ৯ বছর পরে নাসার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ফের আইএসএস-এ নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করে দেয় স্পেস এক্স। উৎস -ইত্তেফাক