আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন।

পুরনো বছরের জীর্ণতা, গ্লানি ও শোককে বিদায় জানিয়ে শুরু হয়েছে নতুন প্রাণের উৎসব- ‘পহেলা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ’। হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এ দিনটি এখন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি বাংলাদেশি একযোগে মেতে উঠেছেন বর্ষবরণের আনন্দে।
রাজধানীর রমনার বটমূল প্রাঙ্গণে সুর, কবিতা ও আবেগঘন পরিবেশনায় বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিল ছায়ানট। বরাবরের মতোই পহেলা বৈশাখের প্রভাতি আয়োজনে ছিল এ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপনা, ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিতভাবে আয়োজন করে আসছে তারা।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা থেকে নেয়া ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। ভোরের কোমল আলোয় প্রায় ২০০ শিল্পীর অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী দর্শক-শ্রোতা।

সকাল সোয়া ৬টায় সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অজয় ভট্টাচার্যের কথায় এবং ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের সুরে রচিত এ গান দিয়ে শুরু হওয়া পরিবেশনা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে বাংলা সংগীতের নানা ধারায়।

অনুষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে পরিবেশিত হয় কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এবং লালন সাঁইয়ের গান। মোট ৮টি সম্মেলক গান, ১৪টি একক পরিবেশনা এবং ২টি আবৃত্তির মাধ্যমে সাজানো হয় পুরো আয়োজন।

রাজধানী ঢাকা, বিভাগীয় ও জেলা শহরের পাশাপাশি গ্রামবাংলাও মেতেছে বর্ষবরণের আনন্দে। নানা বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশুরা বর্ণিল পোশাকে উদযাপন করছে দিনটি। বসেছে বৈশাখী মেলা। বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়েছে বলিখেলা, লাঠিখেলা ও হা-ডু-ডুসহ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। লোক-ঐতিহ্য ও স্বকীয়তা তুলে ধরে এতে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। ‘শান্তি, মানবতা ও সম্প্রীতি’ প্রতিপাদ্যে রমনার বটমূলে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করছেন বর্ষবরণের গান, যা এ দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

উদীচী সকাল থেকে তোপখানা রোডে গান, কবিতা, আড্ডা ও নৃত্যের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ করছে। বিকেল ৪টায় তাদের মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য- ‘বৈশাখের রুদ্র-রোষে ধ্বংস হোক সামাজিক ফ্যাসিবাদ’।

জাতীয় প্রেসক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) বর্ষবরণ উপলক্ষে নানা আয়োজন করেছে। সদস্য, তাদের পরিবার ও অতিথিদের জন্য রাখা হয়েছে বাঙালিয়ানার নানা আয়োজন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন সারাদেশে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করছে। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাড়া-মহল্লায়ও নানা আয়োজনে মানুষ স্বাগত জানাচ্ছে ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন।