দে কিছুটা তিতকুটে হলেও করলার পুষ্টিগুণের শেষ নেই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে এ সবজিটি প্রাকৃতিক ওষুধি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তবে গর্ভাবস্থায় এ সবজিটি খাওয়া উপকারী কি-না তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারও কারও ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় নিয়মিত করলা খেলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়। আবার করলা খেলে অনেক উপকারিতাও পাওয়া যায়। যেমন-

১. গর্ভাবস্থায় ফলিক এসিড খুব প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এ খনিজটি অনাগত শিশুকে বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি থেকে দূরে রাখে। করলায় প্রচুর পরিমাণে ফলিক এসিড থাকে। এ কারণে গর্ভাবস্থায় এটি খেলে ফলিক এসিডের চাহিদা পূরণ হয়।

২. করলায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। এটি খেলে উচ্চ ক্যালরি বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা কমে। এই সবজিটি খেলে গর্ভাবস্থায়ও শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৩. গর্ভাবস্থায় অনেকেরই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হয়। করলায় থাকা ফাইবার এ ধরনের সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে। সেই সঙ্গে হজমশক্তিও বাড়ায়।

৪. করলায় অ্যান্টি-ডায়াবেটিক উপাদান থাকে। এ কারণে এটি নিয়মিত খাওয়া উচিত।

৫. ভিটামিন সি এর ভালো উৎস হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে করলা। হবু মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়াতে পারে এই সবজি।

৬. করলায় বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও খনিজ যেমন- রিভোফ্লাভিন, থায়ামিন, ভিটামিন বি১, বি২, বি৩ ,ক্যালসিয়াম, বিটা ক্যারোটিন আছে। নিয়মিত এটি খেলে গর্ভবতী নারীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ হয়।

কারও কারও ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় করলা খেলে বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা দেয়। যেমন-

১. করলা খেলে অনেকের শরীরের বিষক্রিয়া বেড়ে যায। তখন পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, দৃষ্টিতে সমস্যা তৈরি হয়।

২. গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত করলা খেলে পেটে নানা ধরনের সমস্যা হতে পারে।

৩. করলার বীজ অনেকের শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় যেকোনো ধরনের খাবার প্রথমবার খাওয়ার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র : স্টাইলক্রেজ