রাঙ্গামাটি: রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধের নিরাপত্তা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল শনিবার স্পিলওয়ের (নিষ্কাশন পথ) ১৬টি জলকপাট আংশিক খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সতর্কবার্তা ও পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা:
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী শনিবার বেলা ১১টার পর যেকোনো সময় স্পিলওয়ের ১৬টি গেট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এর মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হবে। জলকপাট খোলার এই সম্ভাব্য ঘোষণায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ধারণক্ষমতা:
পানির বর্তমান উচ্চতা: বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১০৩ দশমিক ৯১ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)।
সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা: লেকটির সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ক্যাচমেন্ট (প্লাবন) এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় লেকের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান জানান, লেকের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে খোলার সময় কিছুটা এগিয়ে বা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। এছাড়া উজান থেকে পানির প্রবাহ আরও বাড়লে পর্যায়ক্রমে গেট আরও বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই চালু রয়েছে। এই ইউনিটগুলোর মাধ্যমে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।