আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি। এ কথা নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নিজ কার্যালয়ে এসব তথ্য জানানা চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীকে জুলাই হত্যাযজ্ঞের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার বিনিময়ে তার পরিবারের কাছ থেকে ঘুষ দাবি ওঠে সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে। জামিন পাইয়ে দিতে তাদের দুজনের মধ্যে কথোপকথনের অডিওটা জেনুইন। এটাই আমরা নিশ্চিত শনাক্ত করতে পেরেছি। সাইমুম আমাদের কাছেও বিষয়টা স্বীকার করেছেন। তবে ঘুষ লেনদেনের সত্যতা পাইনি। কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ও অডিও রেকর্ড হাতে পেয়েছে গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি। তদন্ত কমিটির একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কলেজছাত্র ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলা থেকে চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরীকে অব্যাহতি দেয়ার বিনিময়ে তার পরিবারের কাছে কোটি টাকা দাবি করেন পদত্যাগ করা প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হলে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে অভিযোগ তদন্তে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।

আরও পড়ুন: আসামিকে খালাসের বিনিময়ে কোটি টাকা দাবির অভিযোগ, যা বললেন সাইমুম রেজা

এ বিষয়ে একাধিক ফোনালাপ ফাঁসও হয় গণমাধ্যমে। কিন্তু তার আগেই গত ১০ মার্চ প্রসিকিউটরের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পদত্যাগের কয়েকঘণ্টা পর ‘ঘুষ দাবির’ অভিযোগের দুটি অডিও ফাঁস হয়। এতে প্রসিকিউটর সাইমুমের সঙ্গে ফজলে করিমের আইনজীবী রিজওয়ানা ইউসুফের কথোপকথন শোনা যায়, যা এক কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে মামলার আসামির নাম বাদ দেয়ার সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত দেয়।

এই অডিও ফাঁসের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। এরপর ১০ মার্চ পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, যার নেতৃত্বে রয়েছেন তিনি নিজেই। এর আগে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম ও সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি এসব নিয়েই কাজ করছে। ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর সাইমুম রেজাকে প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল।